বাংলা কলেজ - পড়ুয়ার যৌনতা ---৫ম কিস্তি

দক্ষিণা আর ডিরোজিওর বোনের প্রেমের কথা লিখেছিলাম।মাননীয় পাঠক,আপনি যদি একটি বার 'ঝড়'- নামের বাংলা সিনেমায় চোখ ডোবান তাহলেই দেখতে পাবেন প্রেমকে কতো মেলোড্রামায় মেলে ধরা যায়। প্রেম ব্যাপারটাই আসলে একরকমের মেলোড্রামা তাই মেলোড্রামা মেলগাড়িতে ঝাঁপিয়ে পড়া এ লেখার অভিপ্রায় না।এ লেখা বরং দেখতে দেখতে চলুক শহরের মেয়েদের অফ-শোল্ডার।এই বছর থেকে কলেজ-কামিনীরা আবার কাঁধটুকু ফাঁক করা জামা বেছেছেন।তা ভালো।কিন্তু আমাদের সেই ছেড়ে আসা ৫০% মেয়েরা কি করছে।তাদের একদল শুনলাম একতিরিশে ডিসেম্বরে বর্ষবিদায় জানাতে তাদের চন্দন-চর্চিতা, প্রফেসর - সমাদৃতা বান্ধবীর বাড়ির ছাদে পিকনিক মচালো।তাতে কি শীতকাল এলে ভাষ্কর চক্কোত্তিও হয়তো ঘুমিয়ে থাকার শর্ত ভেঙে এমন একটা-দুটো ফুর্তি ফুঁকেছেন।এখানে যৌনতা নেই।যৌনতা পাওয়া গেল ফেসবুকে তাদের ফুত্তি-ফটোর ফেস্টুনে। সে ছবি বলছে সবার ছোট্ট ভাইটি তার দাদা/সিনিয়রের প্রেমিকা মহিলার উদ্ধত বুকের ভিতর মুখ গুঁজে শুয়ে আছে।দাদা ভ্যাবলার মতো দাঁত কেলিয়ে মদ-গাঁজা-সিগারেটের সঙ্গে পুরো ব্যাপ্পারটা অম্লান বদনে গিলে ফেলছে কারণ তাকেও তো এরকম পরিবেশে অন্য কোনো বান্ধবী /দিদি/বোনের সঙ্গে লটকাতে হবে, অতএব মৌনতা।এই লেখাটা রিয়েলিটিকে সপাটে বলবে ঠিক করেই পথ চলা শুরু করেছে। তাই এসব বর্ণনায় রিয়েলিটির কোনো হাইপার বা লোফার ট্যাগ নেই এটাও স্পষ্ট বলে নি। তাহলে দেখা যাচ্ছে বন্ধুগাছ ধরে দোল খাওয়া যেমন আছে,তেমনি ভাই-এর কপালে ফোঁটার বদলে ভাই-এর বদনে স্তনঠেসে ধরাও আছে।যদিও এই নাজুক নবাবনন্দিনীরা দাবী করেন এ - সমস্ত ক্রিয়াদি অযৌন। বোঝো! এই মহিলার পিছনে ভিড়ের  সুযোগে কোনও অসভ্য জন্তু লিঙ্গ ঠেসে ধরে যদি বলে তার কাম জাগছে না!তাহলে সেটাও কি অযৌন ঠেসে ধরা বলে ধরে নেওয়া হবে!!এটাই কলেজ-করবীর ধ্যাষ্টামো।এই প্যাকেজটা বেশ বড়ো অংশের মেয়ের অভ্যাস।তারা বন্ধু নিয়ে নাটক-সিনেমা-বইমেলা যাবে।অন্ধকার ঘরে দুজনে পাশাপাশি বসে প্রেমের সিনেমা দেখতে দেখতেও তারা যৌনতা - বিহীন।তাদের মধ্যে যে যৌনতা নেই সেটা বলার জন্যে হাফ - টাইমে আলো জ্বললে তারা চারপাশকে শুনিয়ে একটু উঁচুস্বরেই গপ্পো জুড়বে আর মেয়েটি বলবে ' তোর সঙ্গে আমার প্রেম হতেই পারতো'।ওরে আমার নুনড়ি নুন্নুড়ি নুনুপ্লেয়ার,এখন তাহলে কি হচ্ছে!এতো এক্কেরে সিনেমা - বোদ্ধা!  না,বলা যাবে না।কারণ নারী - পুরুষে বন্ধুত্ব হতেই পারে। এটাও হতেই পারে বন্ধুতা। কিন্তু ওই গানটার তাহলে কি হবে?'তোমার সাথে একলা হতে চাই!' লাকাঁয় আবার ফিরতেই হলো,তিনি বলছেন, আমরা আসলে কেউই ঠিকঠাক আমরা নই।আমরা কতকগুলো ইমেজের যোগফল। এখন যে কলেজে ইমেজ সেট করা হলো যে এরকম নিশি-সিনেমালীলা বন্ধুত্ব, সেখানে যৌনতা নেই, সেই ইমেজটা মহিলা-পুরুষ- ভেদে সকলের ইনবক্সে ঢুকে টংটং করে নোটিফিকেশন দিতে থাকে।বেচারা মেয়েটা এই ফাঁদে কখন যে শিকার থেকে নিজেই শিকারি বনে যায় সেটা হয়তো সে নিজেও বুঝে উঠতে পারে না।এই তো সেদিন এক আমপড় মামনি দৌড়ে বাথরুম ঢুকতে গিয়ে বাথরুমের বন্ধ - দরজায় ধাক্কা দিচ্ছিলো,কিছুক্ষণ পরে বাথরুম থেকে পরিচিত সিনিয়র দিদি বেরিয়ে এলো বটে সঙ্গে এক পরিচিত দাদাও কাদামুখে বেরিয়ে এলো।মেয়েটা পরে হিসি করতে করতে হাসছিল আর ভাবছিল এদের প্রেমটা সে দেখে ফেলেছে কদিন পরেই তাকে মুগ্ধ করে সাইন্স-আর্টস মোড়ের মাথায় তারই সামনে দাদাটা কোলে তুলে নিল অন্য এক দিদিকে,বাথরুমস্থ দিদি তখন পাশে দাঁড়িয়ে হাততালি দিচ্ছে।দলগত যৌনতা - যাপন দেখে কচি মেয়ে ঘাবড়ালেও আমরা ঘাবড়াবো না,কারণ অজন্তা, ইলোরা,কোনারকই তো বলছে যে আমাদের দেশে গ্রুপ সেক্স ব্যাপারটা ঐতিহাসিক - বাস্তবতা।তবে এই যে দলগত যৌনতার ধুনকি সে আগেও ছিল, এখনো আছে,কিন্তু বন্ধুত্ব নাম নিয়ে গুলিয়ে দেওয়ার পঙ্গু-প্রস্তাবনা পাঠাচ্ছে, এটাকে দেখলে একটু কষ্টে না লাগুক কোষ্ঠে কঠিন লাগতেই পারে।অতএব আমরা এবার অন্য কয়েকটা সহজ-যৌনতার ডেকে গিয়ে দাঁড়াতে চাই।সেখানে ফুরফুরে বাতাস।হাতে হাত, চোখে চোখ,কথা আজও হারিয়ে যায়। তারা আছে আজও এইসব হার্ড - মেটালের জমানাতেও তারা তাদের সফট পেটাল মেলে রোম্যান্টিক যৌনতার বেড়া ধরে গাইছে'তুমি যে আমা- আ-আ-আ-র...',আর পোঁয়াপাকা দাদাদিদরা বলছে 'এখানে মেলোড্রামা মাড়াসনি তো,বেদো কোথাকার!কামে কেউ কারোর পজেশান না,পজেশানের থেকে কামখেলায় পজিশনটা বেশি দরকার, বুঝলি!'

Comments