বাংলার কলেজ পড়ুয়াদের যৌনতা


প্রসূন মজুমদার

তখন আমার সিলেবাসে রুচি ছিল।ইস্কুলে গুড বয় আর পাড়ায় হিরো-ওয়ারশিপের গুঁতোয় বেচাল হওয়ার তেমন উপায় ছিল না।সকলেই নিজের ভাবমূর্তি বজায় রাখতে চায়,আমিও চাইতাম।আমার বাবাও চাইত আমার ভাবমূর্তি উজ্জ্বল হোক।পাড়ার বখাটে ছেলেদের সংগ করায় কড়াকড়ি ছিল।র‍্যাশন দোকানে যাওয়া ছিল নিষেধ। কারণ এসব জায়গায় চ্যাংড়া ছাবালরা বসে নাকি নোংরা আলোচনা করে।আমার শৈশবে তাই নুংকু-নুংকু খেলার কোনো সুযোগ  ছিলো না।(তবে লুকোচুরি খেলায় লুকোতে গিয়ে যে মেয়েদের পাশে লুকোতে দাঁড়িয়ে কি ভয়ানক হিসু পেয়ে যেত তা মনে পড়লে এখনো রোমাঞ্চ হয়।)

 আমার কামশাস্ত্র অধ্যয়ন তাই শুরু হয়েছিল একটু বড় বয়সে,ক্লাস এইট নাগাদ,মামারবাড়িতে,সমবয়স্ক
মামাতো ভাই-এর অধিনায়কত্ব-এ।সেসময় আমাদের আলোচনা চলত খুব নিচু স্বরে, সবাই ঘুমোলে।বাঁড়া, গুদ জাতীয় পরিভাষাগুলো, যেগুলো আমার শব্দভান্ডারকে প্রত্যক্ষভাবেই সমৃদ্ধ করেছিল সেই সমস্ত শব্দ আর ইরোটিকার জগতের মায়াদরজা প্রথম খুলে দিয়েছিল আমার সেই ভাই।

তখন থেকেই আমার সেই ভাইও যেমন ভাবত আমিও তেমনি ভাবতাম যৌনতা, মানে যাকে সোজা কথায় বলে সেক্স,সেই শব্দটাই খুব বিপজ্জনক শব্দ। তাকে যেখানে সেখানে ব্যবহার করা মানেই চাপ।অতএব তাকে যত্ন করে লুকিয়ে রাখাটাই ভদ্রলোকের কর্তব্য। এখন কেই বা ছোটলোক হতে চায়! সুতরাং যৌনতা হইতে সাবধান।যৌনতা যেন পাগলা কুত্তা। দেখলেই কামড়াতে আসে আর কামড়ালেই প্যাঁট-প্যাঁট করে চোদ্দটা ইঞ্জেক্সান। বাঘে ছুঁলে আঠেরো ঘা,পুলিশে বেড়ে ছত্রিশ আর যৌনতায় ধরলে কোনো উপায় নেই, চার আঠেরো বাহাত্তর  ঘা তো মাস্ট, পারলে কিছু উপরিও মিলে যেতে পারে।

   এটাই গোটা বাংলাভূমের, মায় গোটা দেশের ধারণা। আজকাল যে বাঙালি একটু বড়ো হয়েছে একথা মেনে নিয়েও বলছি  এখনো এই ২০১৭ সালেও সেক্স বললে মানুষ বিছানা-বিলাসের চিন্তায় একটু যেন গোঁত খায়।অথচ আমি লোকটা এমনি বখাটে যে এই সুমতি-শাসিত বংগভূমির মধ্যবিত্ত মূল্যবোধের ক্যাঁতায় মুতে আমার ব্যক্তিগত লেন্সের ভিতর দিয়ে খুঁজে বার করি সেইসব ধ্যাস্টামোকে যারা মনের সুখে পুঁইলতার মতোই বেড়ে উঠেছে,মধ্যবিত্ত ঘরবারের আনাচেকানাচে।

    এই বাংলাঘরের মধ্যবাদীদের বড় ঝামেলা।ডবকা মাগী দেখতে গেলেও এদের আড়ে দৃষ্টি ফেলতে হয়।হয়ত কোনা সমর্থ বউদি  বিকেলবেলায় ছাদে উঠেছে, তার আলুথালু ম্যাকসির ঢোল্কা হাতার ফাঁক দিয়ে একটুকরো সাদা চাঁদের মতো স্তন,(এই দেখুন, ভুল করে আবার মাই না বলে স্তন লিখলাম,এই হচ্ছে মধ্যবিত্ত জাঁতাকল। মানুষ-এর শরীরের যে জায়গা দিয়ে যৌন কাজকম্ম হয়, সেইসব স্থান নাকি কুস্থান!এদের কথা সোজা ভাষায় বলতে নেই,যেমন,বাঙালি হরবখত লিঙ্গকে বলে থাকে পেনিস,এতে নাকি ভদ্রতা রক্ষা হয়!এইসব ফালতু ট্যাবুই আসলে মধ্যবিত্ত বাংলাভাষার বৈশিষ্ট্য। আমাদের মতো নাদান লেখকরা তাই  মাই,কিংবা আদর করে ম্যানা না লিখে, লিখে বসে স্তন)সেদিকেও সোজা তাকাবার উপায় নেই।আড়ে ফেলতে হবে দৃষ্টি। আড় ব্যাপারটার ভিতরেই যে একটা গোপনীয়তার ইঙ্গিত রয়েছে সেটা সহজেই  পড়া যায় না কি?

         আমার লেখাটা কিন্তু এইসব চিরকালীন হেবড়ো   মধ্যবিত্তদের নিয়ে মোটেই মাথা ঘামাতে চায় না,কারণ  এদের মূল্যবোধের কোনো আদিও নেই অন্তও নেই।এরা চিরভীরু চিঁড়েভাজার ভায়রাভাই। আমি এদের কথা লিখলাম,  যাদের কথা বলতে যাব তাদের কথার মিসিং- লিংক হিসাবে। আসলে আমি আমার সার্চলাইট ফেলেছি ইন্টেলেকচুয়াল মধ্যবিত্ত বাঙালির নতুন প্রজন্মর পাকা পোঁয়ায়।আর সে আলোতেও যা  গন্ধ তার কথা যত বলতে পারি তত স্বরের ড্রেন পরিষ্কার হয়।

    হ্যাল খাওয়া শব্দটার সংগে আমার  যখন পরিচয় হলো ততদিনে আমার ৩৫ বছর বয়েস হয়ে গেছে।অর্থাৎ বাইবেলের মতে আধবুড়ো বয়েসে আমি এই নির্বিষ শব্দটা প্রথম শুনি আর এও বুঝি যে হ্যাল খাওয়া মানেই চাপ খাওয়া। পাঠকবন্ধুরা এতক্ষণে নিশ্চয় খুব বিরক্ত হয়ে গেছেন,কারণ আলবাল বকে আমি আসল গপ্পোটা থেকে দূরে সরে যাচ্ছি। একেবারে ঠিক।হ্যাল খেলো  কে?অবশ্যই সে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় নামের বাঙালির সবচেয়ে বড় শিক্ষার আড়তটায় পড়তে আসা এক সদ্য যুবতী। মফস্বল থেকে কলকাতা এসেই তার মাথা গেছে ঘুরে। রঙ রঙিন চারপাশ।তার মধ্যেই সে,  যে উষ্কখুষ্ক চুল,পাজামা পাঞ্জাবি ভূষিত মহাপুরুষটিতে হ্যাল খেয়ে বসল,সে শুধু ভালো অরেটারই নয়,ভালো মেসমেরাইজার।প্রতি বছর  নয় নয় করে তা প্রায় গোটা দশেক মেয়ে তার ওপর চাপ খায়,এই দেখে পাশের ভুঁদকো পি,এইচ,ডি-এর হেব্বি হিংসে,আর ওই হিংসেটাই স্যারের স্যাটিস্ফ্যাকশান।এসব মেয়েটার জানার কথা নয়।তার শুধু হ্যাল খাওয়ার কথা।আর তারপর এগিয়ে যাওয়ার কথা ইরোটিকার বাস্তবতায়।আর সে গেলও।

এখন প্রশ্ন হলো সকলেই কি এই ইরোটিকা-বিলাসিনী, সমবায়ু-শ্বাসিনী? নিশ্চয়ই নয়। কিন্তু কোনক্ষেত্রেই বা সকলে সমমনোভাবাপন্ন? একটা যৌন - পরিমণ্ডল নিয়ে আলোচনা করতে গেলে উজ্জ্বল ব্যতিক্রম নিয়ে আলোচনা করে সবার শেষ-পর্যায়-এ।মূল প্রবণতাটাই প্রথমে মুখ দেখায়।এক্ষেত্রে তাই তাদের কথাই বলব যে মেয়েরা আমাদের হ্যালায়িত যুবতীর সমমনস্ক,আর একটা কথা তো জানা কথা যে ভাতের হাঁড়ির একট চাল টিপলেই হাঁড়ির খবর পাতে এসে পড়বে।

চলবে...

Comments