কলেজ-পড়ুয়ার যৌনতা ৮-ম পর্ব
মেইল গেজে যারা pro-বেশ্যা অতএব প্রবেশ্যা,ফিমেল গেজে তারাই সাহসিনী / বিপ্লবিনী এমন ভেবে বসবেন না।এই গেজ ইলেক্ট্রিকের সকেট নয় যে মেল - ফিমেলে খাপে খাপ।সবচেয়ে সমস্যা হল যে আমাদের বঙ্গ-তনয়ারা যতই দাবী করুক না কেন যে তাদের সত্যযুগ এসে গেছে,আদতে কিন্তু তাদের ভাবনাটাকে আজও লাট্টুপাক খাওয়াচ্ছে বহুদিনের পুরুষতন্ত্রের খাপখোপগুলো।তাই আজও খুব অল্পসংখ্যক মেয়েই বুকফুলিয়ে নিজেকে বলতে পারে 'আমি আমার ভাবনাটা ভাবব,' কিম্বা তার প্রেমিককে বলতে পারে,'তুমি আমার হ্যাবিটগুলোকে চেঞ্জ করাতে পারবে না'। যাই হোক, এইরকম একটা বড় খেলার মাঠ পেয়ে কলেজ-কিশোররা চিরকালই দশ গোল দিয়ে এসেছে।তবে ইদানীং এরাই একটু ব্যাকফুটে,আর আমাদের প্রথম আলোচনার পরিধি এই যাদবপুরের গায়ে তো এই ব্যাপারটা ছেলেদের পক্ষে বেশ টাইট।এখন আর একজন- মাত্র মেয়েকে মুগ্ধ করে দিয়ে অধিকার করে ফেললেই কেল্লা ফতে হচ্ছে না,মানে 'মাল তোলা' বিষয়টা এ-অঞ্চলে অবসোলিট।'মাল' কনসেপ্টটাই এখন অশ্লীলতার ট্যাগ গায়ে সেঁটে হেঁচকি তুলে হল্লাট।অতএব যথাযোগ্য সম্মান না পেলে সিগারেট ও স্বল্প মদ্যপায়ী মেয়েরা ছায়ায় ছায়া ঠুকে হাঁটতে নাচার।কিন্তু ভেতরের হায়না তো সহজে ঘুমায় না,অতঃপর অভিনয় ভিন্ন পথ থাকে না।তাই ধর্ষকামী পুরুষদল এমন একটা মুখোশ চাপিয়েছে যে মনে হয় তারা জেনেটিকালি কামধর্ম পালটে ফেলে,অযৌন সাধুর কাছে দীক্ষা নিয়ে ফেলেছে। এই যে কথা বলতে বলতে ধর্ষকামের প্রসঙ্গ এলো,সেই সূত্রে আমরা তত্ত্বকথাটা আর একবার ঝালিয়ে নিই না কেন? ফ্রয়েড বলছে, পুরুষের মধ্যে কামবিষয়ক যে সাধারণ ধর্মটি আছে, সেটি ধর্ষকাম। অর্থাৎ সাধারণভাবে পুরুষ চায় ধর্ষণাত্মক কামতৃপ্তি পেতে,তাই সে কামখেলায় কার্যকরী ভূমিকা নিতে চায়।অর্থাৎ সে তার কামনার নারীতে গমন করে। অন্যদিকে মেয়েরা সাধারণভাবে মর্ষকামী।অর্থাৎ ক্রিয়াশীল পুরুষকে গহ্বরে গ্রহণ করে তার কামবাসনার স্ফুর্তি হয়।অর্থাৎ মেয়েরা ক্রিয়াশীল হয়ে কার্যকর ভূমিকা নিয়ে কামচরিতার্থ করতে পারে না।এই প্রসঙ্গে আমরা যদি গীতগোবিন্দ-এর একটু দ্বারস্থ হই ক্ষতি নেই।সংস্কৃত শ্লোকটা তুলে দিয়ে আমি যে সেটা জানি এটা দেখাতে পারি কিন্তু বেশিরভাগ সময়েই দেখেছি শ্লোক-ড্রপিং-এর এই খেলাটাকে পাঠক অত্যন্ত সম্মান ও সমীহের সঙ্গে এড়িয়ে যান। তাই এই লেখায় শ্লোক কোট করার ভার না চাপিয়ে আমি বরং গীতগোবিন্দ-এর আলোচ্য অংশটুকু বাংলায় লিখলে কেমন হতো সেটাই একটু লিখে দেখি।
রাধা কুঞ্জবনে অতি মধুর সুগন্ধশোভিত কোমল কৃষ্ণের বক্ষে আরোহণ করলেন।কৃষ্ণের সঙ্গে শৃঙ্গার করতে করতে উত্তেজিত রাধা কৃষ্ণকে আপন অন্দরে ধারণ করার ইচ্ছায় কৃষ্ণের পুরুষাঙ্গ নিজ যোনিপথে চেপে ধরে ক্রমাগত আপন নিতম্বকে প্রথমে ধীরে ও পরে দ্রুত তুলতে - নামাতে লাগলেন। কৃষ্ণ অপূর্ব সুখে রাধাকে গ্রহণ করছিলেন কিন্তু এক মহিলার পক্ষে যা স্বাভাবিক সেই স্বাভাবিক নিয়মতেই রাধার কামোত্তেজনা ক্রমে কমে এলো।তিনি ধীরে ধীরে দুর্বল বৃক্ষলতার মতো শান্ত হয়ে এলেন আর কৃষ্ণকে আপন গহ্বরে আমন্ত্রণ জানালেন।
এই অংশের কামক্রিয়া বর্ণনায় জয়দেব কামশাস্ত্র-এর যে বিষয়টা মাথায় রেখেছেন,তাতে স্পষ্ট যে মেয়েরা শেষ পর্যন্ত মর্ষকামেই সুখী। এক্ষেত্রে আমরা ব্যাতিক্রমগুলো নিয়ে অপ্রয়োজন কচলাকচলি করবো না, যাতে আমাদের আসল যে ফুটপাথ সেখানে অহেতুক জঞ্জাল না বাড়ে।অতএব, এই কলেজকুলতিলকরা এবার নিজস্ব ঢং-এ ছিপ ফেলবে।পুকুর পুরোনো হলে কি হয়! মাছেদের ফিচার পাল্টেছে, তাই ছিপ আর বঁড়শির অল্টারেশেন নিশ্চিত।এখন কি আপনি কোনো সিনেমায় ছিপ হাতে উত্তমকুমারকে গান করে করে 'কেমন মাছ গেঁথেছি বঁড়শিতে' বলে পাড়া জানাতে দেখলে হাততালি দেবেন!দেবেন তো না-ই, বরং ভাল্গার বলে সেই যে নজর সরাবেন,আর উতুবাবুর দিকে ফিরেও তাকাবেন না।মূলত সেই কারণেই এখন ছেলেদের শঙ্খ ঘোষের দু- চারটে কবিতার লাইন জানতে হয়।নইলে আবার কে কবে শঙ্খবাবুর নাম না জানার অজুহাতে বন্ধুত্ব রিফিউজ করে বসে!হ্যাঁ বন্ধুত্ব। এখন ছেলেরা এক লাফে আগায় চড়তে চায় না।সেটা ছিল ২০০০ সালের আশপাশ অব্দি।তখনও কিছু কিছু ক্যাবলা কেষ্ট কলেজে কিম্বা পড়ার ব্যাচে মেয়ে দেখলে দূরের লুব্ধক ভেবে একা-একা, দূরে-দূরে থাকতো।আর টুপুস করে একটা গোলাপ ছুঁড়ে কি বড়োজোর কাঁপাকাঁপা হাতে একটা চিঠি লিখে উত্তরের অপেক্ষায় রাতের পর রাত জেগে কাটাতো।এই লেখাটার যদিও শিরোনাম বাংলা কলেজ - পড়ুয়ার যৌনতা কিন্তু মেনে নিচ্ছি যে এই লেখায় আমি কেবল এপার বাংলার কলেজ - জীবনটাই ছুঁয়ে থাকবো।এর কারণ এই নয় যে ওপারকে আমি বাংলা ভাবছি না।বরং এটা আসলে আমারই সীমাবদ্ধতা। আমার পক্ষে ওপারের কলেজজীবন দেখা সম্ভব হয় নি,আর মালকড়িওলা কোনো স্পন্সর না পেলে ওপারকে নিবিড় পর্যবেক্ষণ করা আমার পক্ষে সম্ভবও নয়।লেখার এই জায়গাটায় আমি ওপারের কথা পাড়লাম কারণ ওপারের গল্প পড়ে, গান শুনে,ছবি দেখে আমার মনে হয়েছে বোধহয় ওপারে খোঁজ করলে এখনো এইরকম দু'চারটে কেবলাকান্ত প্রেমিকের দেখা মিলতে পারে যারা গান গেয়ে গেয়ে প্রেম-নিবেদন করে বলতে পারে ---
' তোমার জন্যে আকাশভরা তারা
আমায় কেবল খোঁপার ফুলটি দিও'
তুমি,আমি,তারা,ফুলের ফুলটুসি গানের লিরিক এপারে তো সেই সুমন জমানাতেই প্রায় পঞ্চত্ব পেয়েছে,যেটুকু সিনেমাটিক 'খোঁপার ওই গোলাপ দিয়ে মনটা কেন এত কাছে আনলে' টাইপ রায়দিঘি স্পেশাল গানগুলো থুচুক-থুচুক করে জেগে উঠেছিল সেইটুকু ন্যাকামোরও গলার উপর পা তুলে দাঁড়িয়ে চন্দ্রবিন্দু নতুন সময়ের 'দিঘি রায়'- দের নতুন প্রেমের গান শুনিয়ে দিয়েছে। এইরকম একটা ঝাঁ-চকচকে সম্পর্ক-মেঝের পাথরে দাঁড়িয়ে যাতে স্লিপ করে না পড়তে হয় তাই নতুন দিনের কলেজ - কিয়স্কে প্রেম ব্যাপারের সঙ্গে আনুষ্ঠানিক 'প্রোপোজাল 'কখনওই দৃশ্যমান নয়।এখন শুধুই বন্ধুতা। 'আমি তোমায়,নাড়তে চাই না,চাড়তে চাই না,ফুলের মতো পাড়তে চাই না/চাইছি তোমার বন্ধুতা'। সেফ জোন।তাই টার্গেট- ছাত্রীটির ফোন পরীক্ষার আগে একদিন বেজে উঠবে।পরীক্ষার পড়া নিয়ে শুরু হবে আলোচনা।তারপর কথা হবে,অল্প।(বেশি কথা হলেই রোম্যান্সের রহস্য মার খায়।) ছেলেটার নানা বিষয়ে জ্ঞান থাকতে হবে।মেয়েটার আগ্রহের জায়গাগুলোয় দখল থাকতে হবে।ব্যাস,চিন্তাজগতে ঢেউ তোলা চারটে ছোট লেকচার আর দুটো মনোজ্ঞ মতামত দিয়ে দিতে পারলে মোটামুটি মাঝমাঠ পর্যন্ত উঠে আসা গেল।কিন্তু এই সময়টায় মেয়েটার পাশে আঠার মতো লেপ্টে থাকলে চলবে না। ক্লাসে নিজেকে মনোযোগী করে তুলতে হবে।মাত্র কয়েকবার চোখে চোখ ফেলে নিতে হবে।আর বাড়ি ফেরার সময় কিছুটা পাশে-পাশে যাওয়ার হাল্কা আহ্বান থাকবে।রাতে কয়েকদিন ছাড়া ছাড়া ঋদ্ধ আলোচনা হবে ফোনে।শুধু দুজনে।এর মধ্যে মেয়েটা হাল্কা করে সঙ্কেত দিয়েছে। লোহা গরম থাকতে থাকতে বলে ফেলো সিনেমা দেখতে যাওয়ার কথা।এই অযৌন প্রোপোজালটাও করতে হবে খুব বুদ্ধি করে।শুধু মেয়েটা ছাড়া এই প্রোপোজালে অন্য কেউ যেন সাড়া না দিয়ে বসে।অন্যের সাড়া দেওয়ার কথা এলো কেন? না প্রোপোজালটাতো বেশ কয়েকজন অন্য বন্ধুর সামনেই করতে হবে যাতে রিফিউসড হলে মনে হয় এই প্রোপোজাল ছিল নির্বিষ। কিন্তু ঠিকঠাক ত্যারিকা ব্যাবহার করতে পারলে চারে মাছ পড়বেই। এবারে সিনেমাহলের অন্ধকার।অন্ধকার মানেই হামলে পড়া না।আস্থা অর্জন করার জন্য সিংহসুলভ লিঙ্গ-গর্জনকেও দমিয়ে রাখা শিখতে হবে। একটুকু ছোঁয়া লাগে পিরিয়ডটা খুব সন্তর্পণে পেরিয়ে তবেই শরীরের গেটপাস। পাস পেলে ভালো,না পেলেও অন্যদের কাছে ব্যাটারি-ডাউন হচ্ছে না।কারণ এটা তো ওরা এমনি-এমনি খায়।
এই গোত্রীয় কামকুচলি দিয়ে পুরুষপুঙ্গবদের গুণকীর্তন শুরু করলাম কারণ এই ধরণের পুরুষ পার্সেন্টেজে কম।ধরা যাক দশভাগ।তাই হর্লিক্স-খেকো প্রেমেরএই পেলব কিসসা দিয়ে আজকের দিনটা চালিয়ে নিন।
চলবে...
Comments
Post a Comment