বাংলা কলেজ - পড়ুয়ার যৌনতা -৪র্থ কিস্তি
ভেবেছিলাম নিজের ব্লগে প্রতিদিন এক খাবলা করে লেখা সেঁটে দেবো। কিন্তু তিনদিন পরে একটু থমকালাম আমার ভ্রাতৃ - প্রতীম এক বন্ধু বললো লেখার ধাঁচাটা নাকি চন্দ্রিল - অনুপ্রাণিত। তাই ঘাবড়ে গিয়ে স্মৃতি ঘাটলাম।এ লেখা যারা পড়ছে তাদের কাছে সৎ স্বীকারোক্তির একটা দায় অবশ্যই আমার আছে। এই প্রসঙ্গে বলতেই হচ্ছে যে কেউ কেউ ভুল করতেই পারেন,চন্দ্রিল-চর্চায় চুবে থাকা একটা প্রজন্মের এই-রকম ভুল হতেই পারে।তাদের কটা কথা বলে নিয়ে আবার এ লেখায় ফিরছি।
ভাইলোক আপনারা সকলেই নিশ্চয় জানেন যে বাংলা ভাষায় শ্লেষ, ব্যাঙ্গ,বিদ্রূপ নামের কতকগুলো শব্দ রয়েছে, যারা কাছাকাছি মানে তৈরি করলেও একই বা অভিন্ন নয়।চন্দ্রিলের লেখায় নিজেকে মহৎ ভেবে নিয়ে উদ্দিষ্টের দিকে চাবুক মারার যে প্রবণতা সে অভিপ্রায় আমার মোটেই নেই।বরং আমি চেয়েছি একরকম নিষ্পৃহভাবে আমার অবজেক্টকে চিহ্নিত করতে। এই ধরণটাতে কারো প্রত্যক্ষ প্রভাব না থাকলেও একজন বাঙালি লেখকের অনুপ্রেরণা আছে।সম্ভবত সেই লেখকের প্রেরণা চন্দ্রিলের আগেই অনেক সাবলীল এবং নির্দোষভাবে এসেছিল আমার অগ্রজ আর এক কলাম -লেখক,প্রাবন্ধিক,আলোচক অনির্বান মুখোপাধ্যায়-এর কলমে।সময়ের হিসেব করলে এই লেখক চন্দ্রিলের বেশ কিছুটা আগেই এই লিখন- ঘরানাটা ফিরিয়ে আনেন তাঁর নিজস্বতায় চুবিয়ে।আর বলতে কি,আমি লোকটা অনির্বাণদাকে চন্দ্রিলের চেয়ে অনেকটাই এগিয়ে রাখি অন্তত প্রজ্ঞার জায়গায়।তাই যদি কেউ মনে করেন আমি চাইছি সদ্য রোঁয়া গজানো আনপড়দের চুলে হাত বুলিয়ে আরাম দিতে তবে হারামের ভাবনা ত্যাগ করুন।আসুন, একটু মূলে ফেরা যাক।
এখন মোদ্দা কথাটা হচ্ছে ভালোবাসা,প্রেম,যৌনতা এই তিনটি বিষয় নিয়ে আমাদের ভাবনাটা একটু নাড়া- ঘাঁটা করে নেওয়া যাক। পুরো বিষয়টা যেহেতু মনাঞ্চলের অধীন, তাই এই এলাকার ধারাভাষ্যকারদের রাজা ফ্রয়েড,ইউং,লাকাঁ - দের ভাবনা- চিন্তা নিয়ে আসুন একটু নেড়ে-ঘেঁটে দেখতে দেখতে আলোচনাটা এগিয়ে নিয়ে যাই। এই কিস্তির শুরুতেই আমি চন্দ্রিলের নাম করেছিলাম।এই চন্দ্রিল নামের ভদ্রলোকের নাম করলেই এই সময়ের একটা বাংলা ব্যান্ডের নাম চলে আসে। এই চন্দ্রবিন্দু ব্যান্ডের সবচেয়ে বেশি এক্সেপ্ট্যান্স কিন্তু কলেজ পড়ুয়াদের কাছে।এই ব্যাণ্ডের একটা বক্তব্য কী?না, 'ফ্রয়েড বলল,যাহা মোষ তাই ভঁইষা /সব শেষমেশ অইদিপাউস গূঢ়ৈষা'।অর্থাৎ কি না,এই গানে ফ্রয়েডকে জোলো করে দেওয়ার একটা গূঢ় অভিপ্রায় আমরা দেখতেই পাচ্ছি। কারণটা খুব পাটা।ফ্রয়েডকে মেনে নিলে এই যৌবন-যাপন পানসে হয়ে যাওয়ার সমূহ সম্ভবনা।আমরা তো সকলেই জানি ফ্রয়েড তাঁর ইদিপাস,আর ইনভার্টেড ইদিপাস কমপ্লেক্স-এর তত্ত্ব দিয়ে কামজ ধ্যাষ্টামির খোলা ছাড়িয়ে দেখেছেন।তাঁর ভাবনায় এই প্রেম বা বন্ধুত্ব নামের ভাবসাবগুলো সবই যৌনতা থেকেই ভেসে উঠেছে।সব মেয়েই যেমন বাবাকে বিছানায় চায়,সব ছেলেই তেমনি মায়ের জরায়ুতেই ঢুঁষিয়ে ঢুকতে চায়।অতঃপর আমাদের ভালোলাগা এবং ভালোবাসাগুলোর সবই আসলে যৌন - আকর্ষণ ছাড়া আর কিচ্ছুটি না।এই তত্ত্বটা পুরোপুরিভাবেই পাশ্চাত্য আধুনিক সাহিত্যতত্ত্বর মাথায় চেপে ছিল।সাহিত্য যেহেতু সমাজদেহের সহিত চলে তাই ধরতেই হবে যে আধুনিক, মানে ঠিকঠাক বলতে গেলে বোদলেয়ার/এলিয়টের আধুনিক সমাজ, ফ্রয়েডিয়ান সাইকোলজির ব্র্যাকেটগুলো মেনে মেনে এগিয়েছে বলেই হয়তো ৬-এর দশক পর্যন্তও বাংলার কলেজগুলোয় ছেলে-মেয়েদের মেলামেশায় অনেক বাঁধন ছিল। কিন্তু এখন তো সে রামও নেই আর সে লংকাও নেই।এখন উত্তর আধুনিকতার ছায়ায় বাংলার যৌবন আবার পশ্চিমা বাতাসে কেঁপে উঠেছে।এখানেই আমাদের আলোচনায় পোষ্টমডার্ন মনোদার্শনিক লাকাঁর দর্শন ঢুকে পড়তে বাধ্য।ফ্রয়েড বা তারও পরের মনোবিদদের মতো লাকাঁ লিঙ্গ নিয়ে বেবাক নাড়াচাড়া করলেন না।বরং লাকাঁ বললেন ফ্যালাসের কথা। ফ্যালাস হল লাকাঁর মতে লিঙ্গের রিপ্লেসমেন্ট।কিন্তু এই ফ্যালাস কেবলমাত্র পুরুষের থাকবে আর মেয়েদের থাকবে না এমনটা নয়।কারণ লাকাঁ ফ্যালাস বলতে তাকেই বোঝাচ্ছেন যা সংকুচিত হয় আর প্রসারিতও হয়।এই ফ্যালাসই নিয়ে আসে যৌনতৃপ্তি, যা লাকাঁর মতে একধণের জুঁইসস,যা কিনা আসলে পেয়েও না পাওয়ার অতৃপ্তিজনিত একরকম দুঃখ-দুঃখ সুখ। আর আপনারা যদি লাকাঁকে আরো একটু ভালো করে দেখেন তবে দেখবেন ফ্রয়েডাদি মনোবিদদের মতো লাকাঁও বলছেন যে যৌনতৃপ্তির বিষয়ে মেয়েরাই বেশ খানিকটা এগিয়ে রয়েছে। অতএব এই লেখাতে আমরা যে কলেজ-পড়ুয়া মেয়েদের যৌনতার গপ্পো নিয়ে আগে নাড়াচাড়া করে নিচ্ছি, তাতে দোষ দেওয়ার বড় একটা উপায় আছে বলে মনে হয় না।
চলবে...
Comments
Post a Comment