বাংলা কলেজ-পড়ুয়াদের যৌনতা -৬ষ্ঠ কিস্তি।এই কিস্তিতে থাকলো যৌন - আচরণে যারা অপর তাদের নিয়ে কিছু কথা

বাংলার কলেজ-পড়ুয়াদের যে থিঙ্কট্যাঙ্ক চালিয়ে নিয়ে যাচ্ছে তার মুখ্য ভূমিকায় অবশ্যই যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় আর প্রেসিডেন্সি। দুই জায়গার ক্রিয়াকলাপে একটা সার্বিক সামান্য লক্ষ্য করা খুব কষ্টকর না।এদের যদি ফ্যাস,ফেটসু /ওদের তবে আই.সি।/এরা যেমন নাওয়াচ্ছে বস/ আমরা তেমনি নাইছি।অতঃপর যাদবপুর, প্রেসির মামনিদের দেহভাঁজ ছেড়ে আসুন আমরা একটু বাবামণিদের মনকীর্তন করি।কিন্তু কথা হচ্ছে যে এই ২০১৮ সালে যাদবপুরের মেধাবিনী - মেধাবী দলের কেউই আর সাদা আর কালোর বোদা বাইপোলারিটিতে বিশ্বাস করে না।এমনকি যৌনতার ক্ষেত্রেও না।তাই মেয়েদের যৌন - দাপটের দরদালান ছেড়ে সোজা ছেলেদের লীলাপ্রপঞ্চ লিখে ফেলায় ঝামেলা আছে।মর্ষকামও ধর্ষকামের (ফ্রয়েড ফলো করে) গোদা দ্বিমেরুর মাঝামাঝিএখানেরয়েছেকিছু ইউনিসেক্সুয়াল, বাইসেক্সুয়াল,হোমোসেক্সুয়াল,লেসবিয়ান,মেট্রোসেক্সুয়াল নারী-পুরুষ। এদের নিয়ে একটিবার একটু নাড়াঘাঁটা না করে সোজা পুরুষ- পরীক্ষায় ঢুকে পড়াটা গুনাহ হবে।
       ইউনিসেক্সুয়ালিটির একটা সুবিধা হল,এদের কক্ষনো আগ্রাসী হয়ে উঠতে দেখা যায় না।দূর থেকে এরা কোনো বিস্রস্ত - বসনার অঙ্গশোভা দেখে রমণ সুখ পেয়ে থাকে।ইদানীন্তনকালের ফুলকলিদের দৃশ্যমান নধর স্তনগম্বুজের শীর্ষভাগ কিম্বা সযত্নলালিত আঢাকা উরুযুগল এদের কামনার্তির পরম তৃপ্তিসাধন করে। সামগ্রিক ইজ্যাকুলেশানে একান্ত তারই ভূমিকা,জগতের আর কাউকে তার এই কর্মে দরকার নেই।কিন্তু এমন লোক এই কলেজজীবনে হাতে গোণা হতে বাধ্য।তারই মধ্যে দু-একজন অবাধ্য আর অবোধ্য সাইকোটিকের জ্বালায় গোপ-হোস্টেলের বালিকাদের নাভিশ্বাস উঠে গেছে বলে গোপন-সূত্রে প্রকাশ।এই ইউনিসেক্সুয়াল সাইকো রোজ কোনো না কোনো সময় যাদবপুরের গোপ - হোষ্টেলের জানলার ওপারে রেললাইনের পাশ থেকে চিৎকার করে মেয়েদের ডাকে এবং জোরালো আওয়াজ- সহ লিঙ্গ উন্মোচন করতঃ হস্তমৈথুনে প্রবৃত্ত হয়।সুতরাং এ এক বিপজ্জনক ইউনিসেক্সুয়ালিটি বললে বাড়িয়ে বলা হয় না। সে যাক, একলা- ফোকলা লোকের থেকে আমরা দোকলায় আসি।দোকলা ব্যতীত যৌনতার প্রকৃত উদ্দেশ্যসাধন অসম্পূর্ণ। পুরাণ মোতাবেক ব্রহ্মার ইচ্ছেতেই মনু মহাশয় (মানে মানবজাতির বাপ আর কি)  দু- ভাগে ভাগ হয়ে গেলেন।ডান ভাগ হল পুরুষ আর বামভাগ হল নারী। এখন মজা কেমন দেখুন।ফ্রয়েড বলছেন ছেলেরা মা-কে আর মেয়ে-রা বাবাকে কামনা করে।আবার লাকাঁ মাদারার,ফাদারার,হ্যানা,ত্যানা করে মোদ্দা কথা বলতে চাইছেন,সকলেই পেরভার্ট।অর্থাৎ সকলেই  'পেরে' মানে বাবার মতো হতে চায়। তাহলে, ফ্রয়েড,লাকাঁ আর পুরাণ এই সবগুলোকে একসঙ্গে নিলে বোঝা গেল যে মানুষ তার বাবা মনুর মতো হতে চায়।মানে মনুর দুই ভাগ অর্থাৎ পুরুষ আর নারী এক হতে চায়।এই চাওয়া বা কামনাই তো যৌনতা আনে। সেই সূত্র ধরে আজ যে সমস্ত সেক্সুয়াল ওরিয়েন্টেশন নিয়ে লিখতে বসেছি তাদের যৌন - চাহিদার ধরণটা প্রকৃতির না-পসন্দ হওয়াই স্বাভাবিক। মানে প্রকৃতির কাছে তারা প্রবলেম চাইল্ড।কিন্তু আমাদের কাছে না।আমাদের এই সময়ে সবই স্বাভাবিক বলার একটা অপ্রয়োজনীয় আঁতলামোর উনুনে ফুঁ দেওয়া চলে, আর সেই আঁতলামোর আতিশয্য আমাদের জানতেই দেয় না যে,সবাই স্বাভাবিক তো নয়ই আসলে সকলেই কম- বেশি অস্বাভাবিক।
 তাই এবার চলুন আমরা একটু চট করে দেখে নিই হোমোদের দুনিয়াদারির কিসিম।যারা হোমো, তারা যে অ-সামান্য একথা তো আগেই আলোচনা হল।এখন এই অবস্থায় সক্কলের সামনে নিজেদের যৌনাচার সম্বন্ধে স্বীকারোক্তির ক্ষেত্রে আজও আমাদের আম-বাঙালি গোষ্ঠীর একটু কিন্তু-কিন্তু আছে। তবে যে বিশ্ববিদ্যালয় মনে করে যে,তারা একটু অন্যরকম সেই বিশ্ববিদ্যালয়ের চৌহদ্দিতে ইদানীং খুব স্বাভাবিক ভাবেই স্বীকার করে যে তারা হোমো।তারা সচরাচর কোনো ঝামেলায় জড়ায় না।এটা বোধহয় এইজন্যেই যে তারা নিজেদের সেক্সুয়ালিটি নিয়েই এতোটা ঘেঁটে থাকে যে ঝুট-ঝামেলায় এরা যেতে পারে না।তবে সবচেয়ে বেশি এক্সপ্লয়েটেড হয় এরাই।এরা প্রধানত সহজ স্বীকার হয় বাই - সেক্সুয়ালদের। বাইদের বাই অবশ্যই বেশি।এরা, মানে এই হোমোরা ভেতরে ভেতরে যতই যৌনক্ষুধার মশলা জমা করে ততই এরা তাদের মনোমত সঙ্গী খুঁজতে গিয়ে ঠোক্কর খায়।আবার একই রকম ওরিয়েন্টেশনের লেসবিয়ানরা কিন্ত অতটা কষ্টে নেই।তারা যে লেসবি এইটা সচরাচর বুঝতেই পারা যাবে না ওপর-ওপর।তবে একদল আছে পুরুষালি লেসবি।এই সক্রিয় লেসবিদের দল দিব্ব কাটায় ইতি-উতি।কারণ মেয়েদের মধ্যে একটা অন্তর্লীণ লেসবিয়ানিসমের চোরাস্রোত সর্বদাই খেলা করতে থাকে।তাই মেয়েরা মেয়েদের সর্বসমক্ষে চুমু খেলেও সেটা সমাজে বড় একটা অবাক করা  ব্যাপার বলে ধরা হয় না।এদিক থেকেও মেয়েরাই অনেকটা সেফ জোনে দাঁড়িয়ে আছে।তবে শহরে সবচেয়ে নতুন সংযোজন সম্ভবত মেট্রোসেক্সুয়ালরা।এরা জাতিতে পুরুষ হলেও আচরণে নারীর সমতুল অথচ যৌন কামনায় এরা নারীকেই বিছানায় চায়।নারীরা অনেকেই এদের দেখলে বন্ধুত্ব করে স্বীয় নিরুপদ্রব বডিগার্ড পাবার আশায়।এরাও রক্ষকের বেশে অল্পবিস্তর কলাটা মুলোটা পেয়েই খুশি।তাই পুরুষ/নারী এই কনফিউশন -এর ফাঁক গলে এরাও একটু যৌন জুঁইসস পায় বৈ কি!

চলবে...

Comments