কলেজ-পড়ুয়ার যৌনতা -৭ম পর্ব। এবার কিশোরদের কথা

যৌনতা ব্যাপারটা ভারি ইন্টারেস্টিং। এ এক অদ্ভুত জুঁইসসের উস্কানি,সম্ভবত প্রাণীকুলের স্রষ্টা,সে হতে পারে কোনো দেবতা,হতে পারে প্রকৃতি, আবার হতেই পারে গ্রহান্তরের জীব,যে-ই হোক,সে বড় মজা করে এই কাম নামের কাঙালপনা প্রাণীমূলে ঢেলে দিয়েছেন।এখন সামান্য মানুষ একে ছেড়ে বেরোতে পারে না।আর মধ্যবিত্ত বাঙালি এই যৌনতার জ্বালায় জ্বলতে জ্বলতে একেবারে নিজস্ব স্টাইলে যৌনক্রিয়াকে কেবল সন্তান - উৎপাদনের কল বলে দেগে দেওয়ার চেষ্টা করেছে আর সেই চেষ্টা অত্যন্ত স্বাভাবিক ভাবেই বারংবার ফ্লপ করেছে।কারণ ভারতীয় শাস্ত্র একে ছয় রিপুর মাথা বলে ভয় দেখালেও কজনই বা আর কাম রিপুকে জয় করার চেষ্টা পায়! চেষ্টার দরকারই বা কোথায় তাও বুঝি না।কামনার বস্তুটাকে পেলেও সুখ,না পাওয়ার দুঃখেও সুখ, তবে এমন বন্ধু আর কে আছে।এখন কথা হচ্ছে যৌনতা নামের এই কই-সুলভ খলবলে ইন্সটিংক্টটা এখনও অবধি ষোলো আনা না হোক পনেরো আনাই পুরুষশার্দূল শাসিত বললে বাড়িয়ে বলা হয় না। যদিও ইদানীং কিছু মেয়ে যৌন - জগতের রানি হয়ে ওঠার চেষ্টা চালাচ্ছে,কিন্তু সমস্যা হল যে,তাদের মাথার ভিতরে এখনো  শতকরা নিরানব্বই ক্ষেত্রেই পুরুষতন্ত্রের ঘোটালাগুলো অন্ধকার উপত্যকার মতো কাজ করে চলেছে।সেই উপত্যকার বিছিয়ে থাকাটা এতটাই নীরব যে মেয়েরা বুঝতেই পারে না যে তারা শিকার করতে গিয়ে শেষাবধি নিজেরাই শিকার হয়ে যেতে থাকে আজও।এই বাস্তবতাকে মেনে নিয়েই আমাদের গোটা প্রক্রিয়াটাকে আরাম করে বুঝতে হবে। কলেজে পড়তে আসা ছেলেগুলোর ক্ষুধার্ত জিভ- লকলকে যৌনাচারগুলো এই প্রেক্ষিতেই আমরা চেটে নিতে থাকব।
    আমাদের চোখে পড়ল কলেজ-কলকলানিতে একদল সদ্য ঢুকে পড়া কোকিল যারা  কোথায় কু দিতে হবে আঁচ করার চেষ্টা করছে। পাঠক - সাধারণ, আপনারা নিশ্চয় ভালোভাবেই জানেন যে চন্দ্রবিন্দু ব্যান্ডের একটা গান কলেজ-ফেস্টগুলোকে প্রায় বিশবছর মুখর করে রেখেছে,সে গানের কথাগুলো কি? 
 'দাদা-দিদি হাত ধরে সিঁড়িতেই বসে পড়ে
আমার মনটা করে আনচান
'sweet-heart I'm feeling alone'.'
 এইখানে আবার সেই লাকাঁর তত্ত্ব মিলে গেল।আসলে আমাদের ব্যক্তিত্ব নিয়ন্ত্রিত হয় কতকগুলো ইমেজের দ্বারা।এক্ষেত্রে কলেজগুলোর লীলাকমল ফুটল নতুন আসা ছেলের মনে।সেও একাকিত্ব অনুভব করতে শুরু করল। অমনি আঁতিপাঁতি করে খুঁজতে শুরু করল গার্ল-ফ্রেণ্ড। এই গার্ল-ফ্রেণ্ড ব্যাপারটার মানে কিন্তু বন্ধুও না,আবার প্রেমিকাও না।এই গার্ল -ফ্রেন্ড-রা ফ্রেন্ড  আর প্রেমিকার মাঝামাঝি ডিমের পোচ জাতীয় আধাকঠিন আধাতরল কিম্ভূতাকৃতি।সে যাই হোক এদের পাশে পাশে গোধূলি আলোয় ছায়ায় ছায়া মিশিয়ে হেঁটে যাওয়া যায়। হাঁটতে হাঁটতে একটু হাত ধরলে ক্ষতি নেই। একটা সিগারেট কাউন্টারে খাবার সময় এই সিগ্রেট ছুঁয়েছে নীরার ঠোঁট ভেবে যে আনন্দ তারই উদযাপন এই কলেজ-বয়স।ক্লাস শুরুর একটু আগে ক্লাসে ঢুকে পড়ে একদিন খুঁজে পেলাম এদেরই একজন মেয়েটার হাত ধরে নচিকেতা গাইছে।হাত ক্রমশ হাত বেয়ে বাহুমূল ছুঁতেই মেয়েটা বলল 'ব্যাস,ওই পর্যন্ত, আর উঠবি না।' মানে এই যৌনতায় একটা আরোপিত লিমিট ছিল।আর এই গল্পটা ছিল ৯৭ সালের।তখনো মোবাইল  আসে নি।ইন্টেরনেট হাত ঘোরালেই নাড়ু হয়ে ওঠে নি। সেই সময়ের শিশু-স্মার্ট কলেজ যৌনতা বান্ধবীর বাহুমূলে আটকে গিয়েছিল।তারপর সময় গড়িয়েছে, সময়ের কষ বেয়ে  স্মার্টফোন ঝুলে পড়েছে।কলকাতা গেয়ে উঠেছে,'এলো শেষমেশ সেলোফেনে মোড়া দিন'।তাই এখন ব্যাপার আলাদা।এখন বিয়ের আগে বেশ কিছুদিন লিভ-ইন করতে হয় এইজন্যে যে বিয়ে করে দুজনে থাকা যাবে কিনা স্টা যাতে বুঝে নেওয়া যায়।  এইরকম সময়ে যৌনতা করার আগে যে মাঠ - পর্যবেক্ষণ চলবে এ আর এমনকি!কিন্তু পর্যবেক্ষণ করে মাঠে নামার ধৈর্য অথবা মানসিকতা কলেজ-কিশোরদের কোনদিন ছিল না।এখনও নেই।আর থাকার কথাও না।ফ্রয়েড সাহেব তো বলেই দিয়েছেন, 'এই পৃথিবীর সব পুরুষ চায়,পৃথিবীর সব অর্থ ও সব নারী আমার হোক'।অতএব এই হৃদয়-হরিণরা চায় 'সাহসে,সাধে,সৌন্দর্য-এ একের পর এক হরিণী-কে 'মুগ্ধ করে দিতে। কিন্তু শুরুটা তো করতে হবে?গত শতাব্দীর নয়ের দশকেও ছেলেরা তাদের টার্গেটকে মুগ্ধ করার খেলা শুরু করতে বেশ কেবলে-ভেবলে যেত, কিন্তু নতুন যৌবনের দূতেদের ভ্যাবলরাম বলার আর কোনো উপায় নেই।জাল ফেলার নানাবিধ রঙিন টেকনিক তাদের অনায়াস-সিদ্ধ। এই ত্যারিকাগুলোর মধ্যে যেটা প্রধান আর প্রভুত অভ্যাস করা হয় সেটা সরল বন্ধুত্ব।  যে বন্ধুত্ব ব্যাপারটা নিয়ে মনুষ্যসমাজে একটা উচ্চ আদর্শবোধ বিছিয়ে দেওয়ার ক্রমাগত চেষ্টা সেই আদিম যুগ থেকে চলে আসছে সেই বন্ধুত্ব ব্যাপারটাই পুরুষের প্রাথমিক অবলম্বন। বেড়ার গায়ে লাউলতা যেমন তরতরিয়ে বাড়তে থাকে টার্গেটেড বন্ধুত্ব তেমনি এগোয়।চা-এর ঠেক থেকে শুরু হওয়া সেই বন্ধুত্ব চলতে থাকে কলেজক্যান্টিন ফুঁড়ে মেলা-পার্বণ পেরিয়ে সিড়ির তলা,কিম্বা ফাঁকা কলেজ-ঘরে ঠোঁটে ঠোঁট ডোবানোয়।এখন ৯৭ সালের সেই মেয়েটা আগেভাগেই তার লিমিটটা জানিয়ে দিয়েছিল।কিন্তু এই মেয়েরা লিমিট ছাড়ানোই যেহেতু স্মার্টনেস বলে জানে তাই এরা অধিকাংশ সময়েই  কলেজ-কিশোরদের কাছে সফট-টার্গেট।মেল-গেইজে এরা প্রো-বেশ্যা বলে পরিগণিত হতে থাকে।

Comments